মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর, আদালতে আবারও উত্তেজনার ঝড়!
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ পাঁচটি পৃথক মামলায় ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন ফের খারিজ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাগুলোর শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক হাসানুল ইসলাম জামিন আবেদন নাকচের আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুনানিকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যকে পুলিশ পাহারায় আদালত কক্ষে আনা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাফেরত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য চিন্ময়ের জামিন আবেদন উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রবল বিরোধিতায় আদালত পাঁচ মামলাতেই জামিন নামঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষে যে পাঁচ মামলায় জামিন চাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে আইনজীবী হত্যা, পুলিশকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও আদালত ভাঙচুরের অভিযোগ। এসব মামলায় চিন্ময়ের নাম এজাহারে ছিল না, কিন্তু তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
আদালতের নির্দেশে কারাগারে থাকা চিন্ময়কে সব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রতিটি মামলায় তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৩ জুন একই মামলাগুলোর জামিন আবেদন খারিজ করেন মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দিক। এরপর দায়রা আদালতে আবেদন করা হয়।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক ও ‘সনাতনী জাগরণ জোট’-এর মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন চট্টগ্রাম আদালতে হাজিরের পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।
চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর আদালত চত্বরেই তাণ্ডব শুরু হয়। চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রায় ৩ ঘণ্টা প্রিজনভ্যান আটকে রাখে। পরে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
পরবর্তীতে লালদীঘি থেকে কোতোয়ালি এলাকা পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার জেরে কোতোয়ালি থানায় আইনজীবী হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, আদালতে বিশৃঙ্খলা, ককটেল বিস্ফোরণসহ মোট ছয়টি মামলা দায়ের হয়। যার মধ্যে পাঁচটিতে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আদালতের নির্দেশে।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের এপিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “২৬ নভেম্বরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর জামিন আবেদন আজ ফের নামঞ্জুর করেছেন দায়রা জজ আদালত।” শুনানির সময় চিন্ময়কে আদালতে হাজির করা হয়নি, তবে তার পক্ষে ঢাকা থেকে আগত আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।